মানুষের বিপদের সময় পাশে থেকে সহযোগিতা করাই মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে যদি একটি প্রাণ বাঁচে; একজন মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখে—তাতেই হয়তো জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। তখন আমাদের সমাজের কিছু মানুষ বিপদ সঙ্কুল পরিবেশে পতিত হয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। ঠিক তখনি প্রয়োজন তাদের সহযোগিতার। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক নিম্নাঞ্চল প্রবল বন্যায় প্লাবিত। বাড়িঘর নিমজ্জিত, চারদিকে পানি—খাবার তো দূরের কথা, নিরাপদ আশ্রয়টাই মানুষের জন্য অপ্রতুল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পানিবন্দি মানুষের মাথা গোজার ঠাঁই হচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকার নানাভাবে দুর্গতদের খাবার-পানি-বাসস্থানের ব্যবস্থা করছে। অথচ এই সহযোগিতা সবাই পাচ্ছে না। এ অবস্থায় বন্যা দুর্গতদের পাশে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এগিয়ে আসা অতীব জরুরি এবং মানবিক।
একজন মানুষ, মানুষের জন্যই। বিপদে-আপদে, সমস্যা-সংকটে ছুটে এসে সাহায্য করবে—এমন প্রত্যাশা মানুষ মাত্রই করতে পারে। মানব জীবনের সম্পূর্ণতা আর তৃপ্তির জন্য সমাজের অসহায়-পীড়িতদের জন্য কিছু করা দরকার। আমাদের সবারই সুযোগ রয়েছে মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার।
আমি, আপনি, সে এভাবেই এগিয়ে আসতে পারি সকলেই। দাঁড়াতে পারি বিপদে মানুষের পাশে। আসুন বন্যা দুর্গতদের পাশে এসে একটু সাহায্যের হাত প্রসারিত করি—ভুপেন হাজারিকার সেই অমর গানের মতোই...মানুষ মানুষের জন্য/জীবন জীবনের জন্য/একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না/ও বন্ধু/মানুষ মানুষকে পণ্য করে/মানুষ মানুষকে জীবিকা করে/পুরনো ইতিহাস ফিরে এলে লজ্জা কি তুমি পাবে না?/ও বন্ধু/বল কী তোমার ক্ষতি/জীবনের অথৈ নদী/পার হয় তোমাকে ধরে দুর্বল মানুষ যদি/মানুষ যদি সে না হয় মানুষ/দানব কখনো হয় না মানুষ/যদি দানব কখনো বা হয় মানুষ লজ্জা কি তুমি পাবে না?...
জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব
কাশি কমাতে ব্যায়াম
ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস হলো শ্বাসনালির মিউকাস আবরণীর প্রদাহজনিত রোগ। পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি। দীর্ঘদিনের ধূমপায়ীরা বেশি আক্রান্ত হন। এ ছাড়া বায়ুদূষণ, ধুলাবালি ও পরিবেশজনিত সমস্যা থাকতে পারে এর পেছনে। কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে শোঁ শোঁ শব্দ, বছরে কয়েকবার সংক্রমণ হওয়া এই রোগের অন্যতম উপসর্গ।
ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস কখনো ভালো হয়ে যায় না। কেবল নিয়ন্ত্রণ করা যায় ও উপসর্গগুলোকে কমানো যায়। ওষুধ ও ইনহেলারের পাশাপাশি এই রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়ামের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। একজন রেসপিরেটরি থেরাপিস্ট রোগীর জটিলতা ও রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ব্যায়ামের পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে পিই স্কেল ব্যবহৃত হয়। এই স্কেলে রোগীর এক্সকারশন বা শ্রমের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। যদি এক্সকারশন মাত্রা ২০–এর ওপর থাকে, তবে সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যায়াম করানো যায়। আবার মাত্রা ৬ হলে হালকা বা মৃদু ব্যায়াম।
চেস্ট ফিজিওথেরাপির সময় প্রথমে ওয়ার্ম আপ ও পরে কুল ডাউন করা জরুরি। নিজের মাত্রা বুঝতে হবে, মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়াম বা কাজ করা বিপজ্জনক। আরামদায়ক পরিবেশ ও উপযুক্ত পোশাকে ব্যায়াম করতে হবে। খারাপ লাগলেই ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে।
বাড়িতে নিজে করার উপযোগী একটি ব্যায়ামের উদাহরণ দেওয়া হলো। এই ব্যায়ামের নাম হলো পারসড লিপ ব্রেদিং এক্সারসাইজ। এটি ব্রঙ্কাইটিসের রোগীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমে একটি চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন।
ঘাড় ও কাঁধের পেশিগুলোকে নরম বা শিথিল করুন।
ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস নিন, কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন। প্রথম দিকে তিন সেকেন্ড দিয়ে শুরু করুন, পরে সময় বাড়াবেন।
এবার মুখটাকে গোল করে ফুঁ দেওয়ার মতো করে শ্বাস ছাড়তে থাকুন।
এই ব্যায়ামে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা ও অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ে। যখনই শ্বাসকষ্ট বাড়ে, এটি করতে পারেন।
গৃহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার এক ব্যবহারিক কার্যক্রম
মনে রাখবেন যে, একটা গৃহ এবং এর চারদিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আপনার আর্থিক অবস্থার ওপর নয় কিন্তু আপনার মনোভাবের ওপর নির্ভর করে।
তালিকায় আপনার নিজস্ব বিষয়গুলো যোগ করার জন্য ফাঁকা জায়গাগুলো ব্যবহার করুন
গুরুত্বপূর্ণ নোট: পরিষ্কার করার জিনিসগুলোকে মিশিয়ে ফেলা খুবই বিপদজনক, বিশেষ করে আ্যমোনিয়ার সঙ্গে ব্লিচ মেশানো
✔ প্রতিদিন
❏ শোবার ঘর: বিছানাপত্র গুছিয়ে রাখুন এবং জিনিসপত্র ঠিক জায়গায় রাখুন
❏ রান্নাঘর: বাসনপত্র ধোন ও সিঙ্ক পরিষ্কার করুন। রান্না করার জায়গা ও টেবিলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। প্রয়োজনে মেঝে ঝাড় দিন অথবা মুছুন
❏ বাথরুম: সিঙ্ক এবং টয়লেট পরিষ্কার করুন। জিনিসপত্র ঠিক জায়গায় রাখুন
❏ বসার ঘর ও অন্যান্য ঘর: জিনিসপত্র ঠিক জায়গায় রাখুন। আসবাবপত্র হালকাভাবে পরিষ্কার করুন। প্রয়োজনে মেঝে ঝাড় দিন, মুছুন অথবা ভ্যাকুয়াম করুন
❏ পুরো ঘর: ঠিকমতো জঞ্জালগুলো ফেলে দিন
✔ সপ্তাহে
❏ শোবার ঘর: বিছানার চাদর পালটান। প্রয়োজন হলে মেঝে ঝাড় দিন, মুছুন অথবা ভ্যাকুয়াম করুন। আসবাবপত্রের ধুলো ঝাড়ুন
❏ রান্নাঘর: স্টোভ, রান্না করার জায়গা এবং সিঙ্কের কল ও পাইপ পরিষ্কার করুন। মেঝেটা মুছুন
❏ বাথরুম: ভিজে যাওয়া দেওয়াল আর টাব ও সিঙ্ক পরিষ্কার করুন। টয়লেট, ক্যাবিনেট এবং অন্যান্য জায়গা জীবাণুনাশক দ্রব্য দিয়ে পরিষ্কার করুন। তোয়ালেগুলো পালটান। মেঝে ঝাড় দিন অথবা মুছুন
✔ মাসে
❏ বাথরুম: সমস্ত দেওয়াল ভাল করে পরিষ্কার করুন।
❏ পুরো ঘর: দরজাগুলোর ফ্রেম পরিষ্কার করুন। গদিগুলো ভ্যাকুয়াম করুন অথবা ভাল করে পরিষ্কার করুন
❏ বাগান, উঠোন, গ্যারেজ: যদি প্রয়োজন হয়, তা হলে ঝাড় দিন ও পরিষ্কার করুন। আবর্জনা অথবা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমা হতে দেওয়া এড়িয়ে চলুন
✔ ছয় মাস অন্তর অন্তর
❏ শোবার ঘর: প্রস্তুতকারকের নির্দেশমতো বিছানা ঢাকার চাদরগুলো পরিষ্কার করুন
❏ রান্নাঘর: খালি করে ভালভাবে রেফ্রিজারেটার পরিষ্কার করুন
❏ বাথরুম: তাক ও ড্রয়ারগুলো খালি করে পরিষ্কার করুন। অপ্রয়োজনীয় অথবা অব্যবহারিক জিনিসপত্র ফেলে দিন
❏ পুরো ঘর: ল্যাম্প, পাখা এবং লাইট লাগানোর জায়গাগুলো পরিষ্কার করুন। দরজাগুলো পরিষ্কার করুন। জানালার আবরণ, জানালা এবং জানালার ফ্রেমগুলো পরিষ্কার করুন
✔ বছরে
❏ শোবার ঘর: ক্লজিটগুলো খালি করে ভালভাবে পরিষ্কার করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে দিন। কম্বলগুলো ধুয়ে রাখুন। তোষকগুলো ভ্যাকুয়াম করুন অথবা ভাল করে ঝাড়ুন। প্রস্তুতকারকের নির্দেশমতো বালিশগুলো পরিষ্কার করুন
❏ রান্নাঘর: তাক, আলমারি ও ড্রয়ারগুলো খালি করে ভালভাবে পরিষ্কার করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে দিন। জিনিসপত্র সরান, যাতে আপনি সেগুলোর তলা অথবা মেঝে পরিষ্কার করতে পারেন
❏ পুরো ঘর: সমস্ত দেওয়াল ধুয়ে ফেলুন। প্রস্তুতকারকের নির্দেশমতো গদি এবং পর্দাগুলো পরিষ্কার করুন
❏ গ্যারেজ অথবা গুদামঘর: ভাল করে ঝাড়ু দিন। অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখুন অথবা ফেলে দিন





